২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে যোগ্যতা অর্জনের লড়াই। বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ১০ দলের বাছাইপর্ব, যা আগামী বছর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলই সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাবে। ফলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কাছে এই বাছাইপর্ব হতে চলেছে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব
২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ বাছাইপর্ব। আইসিসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে ১০ দলের এই কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্ট। আইসিসি ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার তারিখ চূড়ান্ত করেছে। তবে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো কোন দেশে এবং কোন কোন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, সেই ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নেওয়ার জন্য এই টুর্নামেন্টে দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে। বিশেষ করে যেসব দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের কাছে এই বাছাইপর্বই হবে নিজেদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম বড় মঞ্চ।
কোয়ালিফায়ার চ্যাম্পিয়ন পেলেই সরাসরি মূল বিশ্বকাপে জায়গা
২০২৭ বিশ্বকাপের সংশোধিত কাঠামোর কারণে এবারের কোয়ালিফায়ার আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১০ দলের এই প্রতিযোগিতায় যে দল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হবে, তারা সরাসরি ১৪ দলের বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ কোয়ালিফায়ার জেতা দলের জন্য আর কোনো অতিরিক্ত বাছাইপর্বের বাধা থাকবে না। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে শেষ করা দলগুলোর লড়াই সেখানেই শেষ হবে না। এই তিন দল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে, যেটিকে সুপার সিরিজ বলা হচ্ছে, সেখানে অংশ নেবে। সেই পর্যায়ে সেরা দলটি আবার ১২ দলের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়, শীর্ষ চারেও থাকার জন্য দলগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে।
১০ দলের কোয়ালিফায়ারে কীভাবে নির্ধারিত হবে দল
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মোট ১০টি দল অংশ নেবে এবং তাদের নির্বাচন করা হবে একাধিক যোগ্যতা অর্জন পর্বের মাধ্যমে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ওডিআই র্যাঙ্কিং অনুযায়ী দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে বাদে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা দুটি পূর্ণ সদস্য দেশ কোয়ালিফায়ারে জায়গা পাবে। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপ লীগ ২-এর শীর্ষ চারটি দল সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবে। বাকি চারটি দল আসবে কোয়ালিফায়ার প্লেঅফ থেকে। অর্থাৎ র্যাঙ্কিংয়ে দলগুলোর অবস্থান, বিশ্বকাপ লীগ ২-এর পারফরম্যান্স এবং প্লেঅফের ফলাফল—সবকিছুর ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কোন ১০টি দল ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নেবে।
প্লেঅফের লড়াইও হবে বিশ্বকাপের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
মূল কোয়ালিফায়ারে যাওয়ার আগে কয়েকটি দলের সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা থাকবে। বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লেঅফে অংশ নেবে বিশ্বকাপ লীগ ২ এর সর্বনিম্ন চারটি দল এবং চ্যালেঞ্জ লীগের চারটি দল। মোট আটটি দলকে নিয়ে এই প্লেঅফ অনুষ্ঠিত হবে এবং এখান থেকে সেরা চারটি দল মূল ১০ দলের কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেবে। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ লীগে মোট ১২টি দল থাকবে এবং তাদের ছয়টি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে দলগুলো রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল প্লেঅফে পৌঁছাবে। ফলে তুলনামূলকভাবে নিচের স্তর থেকে উঠে আসা দলগুলোর কাছেও ২০২৭ বিশ্বকাপের দরজা খোলার সুযোগ থাকবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ভর করছে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দলটি এখন ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে দশম স্থানে রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কাট-অফের আগে তাদের হাতে ভারতের বিপক্ষে আরও দুটি ওডিআই ম্যাচ রয়েছে। এই দুই ম্যাচে ভালো ফল করলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করার সুযোগ পাবে ক্যারিবিয়ান দল। তবে শুধু নিজেদের ম্যাচের ফলই নয়, অন্যান্য দলের ফলাফলও তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে অষ্টম স্থানে থাকা আফগানিস্তান এবং দ্বাদশ স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়ারল্যান্ড যদি সিরিজটি ৪-১ বা ৫-০ ব্যবধানে জিতে নেয়, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে শীর্ষ আটে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আফগানিস্তান সিরিজ জিতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরবর্তী যোগ্যতা অর্জন পর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
২০২৩-এর তিক্ত স্মৃতি ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের
২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ মাত্র কয়েক বছর আগেই ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ থেকে নাটকীয়ভাবে ছিটকে গিয়েছিল তারা। হারারেতে অনুষ্ঠিত সেই বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে সুপার ওভারে হেরে বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করতে পারেনি ক্যারিবিয়ান দল। একসময়ের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট শক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য সেটি ছিল বড় ধাক্কা। এবার ২০২৭ বিশ্বকাপের নতুন কাঠামোয় তাদের সামনে আবারও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হলে সরাসরি মূল বিশ্বকাপে যাওয়া যাবে। তাই ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের কাছেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকবে।
মূল্যায়ন
সব মিলিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হতে চলেছে বেশ কয়েকটি দলের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার পাশাপাশি সুপার সিরিজের মাধ্যমে মূল পর্বে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত লড়াই জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলোর জন্য এই প্রতিযোগিতা হবে ২০২৩ সালের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার সুযোগ। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বাছাইপর্ব তাই বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও তৈরি করবে বাড়তি উত্তেজনা।











