পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে নামার আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটার জর্ডান কক্সের আত্মবিশ্বাসের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠেছে বিরাট কোহলির পরামর্শ। চলতি বছরের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় কোহলির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পান কক্স। সেই সময় টেস্ট ক্রিকেটের চাপ, অভিষেকের মানসিকতা এবং ব্যর্থতাকে কীভাবে সামলাতে হয়, তা নিয়ে কোহলির কাছ থেকে মূল্যবান শিক্ষা পান তিনি। কঠিন সময় পেরিয়ে পাওয়া নতুন সুযোগে এবার সেই শিক্ষাগুলোকেই কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চান কক্স।
কোহলির পরামর্শ কক্সের জন্য বড় অনুপ্রেরণা
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজে নামার আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটার জর্ডান কক্স বিরাট কোহলির কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। চলতি বছরের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় কক্স বেশ কয়েক মাস কোহলির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে ছিলেন। সেই সময় ভারতীয় কিংবদন্তির সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েকবার কথা হয় এবং টেস্ট ক্রিকেটের চাপ সামলানো, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা ও বড় মঞ্চে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শও পান। কোহলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কক্সকে নিজের পরিস্থিতিকে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেখতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে পরিস্থিতিকে বড় করে না দেখে নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
টেস্ট অভিষেকের আগে কোহলির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বহু প্রতীক্ষিত টেস্ট অভিষেকের আগে কক্সের সঙ্গে কোহলির একটি কথোপকথন বিশেষভাবে মনে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপ ও উত্তেজনা ছিল কক্সের মধ্যে। সেই সময় কোহলি তাঁকে বলেছিলেন, অভিষেক জীবনে একবারই আসে, তাই ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে মুহূর্তটিকে উপভোগ করতে হবে। কক্সের মতে, কোহলির এই সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটাই প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছিল এবং অভিষেকের চাপকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কোহলির কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে কক্স বুঝতে পেরেছিলেন, প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশার চাপের চেয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা উপভোগ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ ছিল না কক্সের টেস্ট দলে পৌঁছানোর পথ
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা পাওয়ার জন্য কক্সকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং তাঁর পথ মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে তাঁর টেস্ট অভিষেক হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচের মাত্র কয়েক দিন আগে অনুশীলনে বুড়ো আঙুলে চোট পান তিনি। ফলে পুরো সফর থেকেই ছিটকে যেতে হয় এবং তাঁর জায়গায় দলে সুযোগ পান জ্যাকব বেথেল। পরবর্তীতে বেথেল ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নিজের জায়গা শক্ত করে নেন, ফলে কক্সের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল তিনি আদৌ আবার টেস্ট খেলার সুযোগ পাবেন কি না। সেই কঠিন সময় তাঁর আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার সুযোগ পাওয়ায় এবার সেই পুরনো হতাশাকে পিছনে ফেলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতেই মরিয়া কক্স।
অভিষেকের পর এবার সামনে আরও বড় সুযোগ
অবশেষে এই বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কক্সের টেস্ট অভিষেক হয়। তবে অভিষেকটি তাঁর প্রত্যাশামতো হয়নি এবং সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি প্রথম ইনিংসে ২৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান করেন। এরপর জ্যাকব বেথেল চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় কক্সের সামনে আবার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের অন্তত প্রথম দুই ম্যাচে তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দেখানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা পাওয়ার দাবিও জোরালো করতে পারবেন তিনি।
ক্রিকেটের বাইরের জীবন নিয়েও কোহলির শিক্ষা
কক্সের সঙ্গে কোহলির কথোপকথনের আরেকটি বিষয়ও তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। কোহলি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে ক্রিকেট একজন খেলোয়াড়ের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সেটিই পুরো জীবন নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ, ব্যর্থতা কিংবা মানুষের প্রত্যাশাকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। কোহলি তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা একজন ক্রিকেটারকে চেনেনই না, তাই মাঠের একটি খারাপ দিনকে জীবনের সবকিছু হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি কক্সকে চাপের পরিস্থিতিতে আরও স্থির থাকতে সাহায্য করছে।
পাকিস্তান সিরিজে কোহলির শিক্ষা সঙ্গে নিয়েই নামবেন কক্স
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে তাই কক্স শুধু নিজের ব্যাটিং নিয়ে নয়, মানসিক প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, মন খারাপ হলে বা কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হলে এখনও কোহলিকে মেসেজ করতে পারেন এবং ভারতীয় তারকাকে ফোনের অপর প্রান্তে পাওয়া যায়। মাঠে কোহলির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা এবং মাঠের বাইরের শান্ত দৃষ্টিভঙ্গি দুই দিক থেকেই কক্স শিক্ষা নিয়েছেন। এবার সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চান তিনি এবং পাওয়া সুযোগটিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে পরিণত করতে চান।
মূল্যায়ন
জর্ডান কক্সের জন্য পাকিস্তান সিরিজ শুধু আরেকটি টেস্ট সিরিজ নয়, বরং ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করার বড় সুযোগ। চোটের কারণে সুযোগ হারানো, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রত্যাশামতো টেস্ট অভিষেক না হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং কোহলির দেওয়া ইতিবাচক মানসিকতার শিক্ষা তাঁকে কঠিন পরিস্থিতিতে আরও স্থির থাকতে সাহায্য করছে। এখন সেই পরামর্শ ও অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোই কক্সের লক্ষ্য।











